বিদেশী নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" (America First) দৃষ্টিভঙ্গি বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুন আকার দিচ্ছে। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে আমেরিকার ভূমিকাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সাথে সাথে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই আকর্ষণ করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সংস্থা থেকে প্রত্যাহার, বাণিজ্য চুক্তিগুলির পুনর্গঠন এবং বহুপাক্ষিক কাঠামোর চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া। এনপিআর-এর (NPR) গ্রেগ মায়ার জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী যুগ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো-র (NATO) মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দেখান যে আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনীয়। তারা মনে করেন যে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। "আমেরিকা ফার্স্ট"-এর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের দিকে মনোযোগ দিতে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন দ্বারা সীমাবদ্ধ না হয়ে নিজস্ব এজেন্ডা অনুসরণ করতে সহায়তা করে।
তবে, সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ট্রাম্পের নীতি বিশ্ব ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। তাদের যুক্তি হলো জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী এবং অর্থনৈতিক সংকটের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তারা আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে বিশ্ব নেতৃত্ব থেকে সরে গেলে এমন একটি শূন্যতা তৈরি হতে পারে যা অন্য দেশগুলো, যাদের সম্ভাব্য ভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে, পূরণ করতে পারে।
ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব সুদূরপ্রসারী এবং এটি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ইরান-এ (Iran) সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করার সময়, মিত্র এবং প্রতিপক্ষ উভয়ই প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতি সিদ্ধান্তের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। বিশ্ব ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনও দেখার বাকি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment